Friday, March 22, 2019

আহ্বানের ছায়াতে

নিউ ইয়র্ক । নামটার মধ্যেই রয়েছে এক নতুন চকচকে ঝকঝকে ব্যাপার । লা গুয়ার্দিয়া এয়ারপোর্টে নেমে পাশে একটি বেকারি থেকে ব্রেকফাস্ট করে নিউ ইয়র্ক সিটি-পাস কিনে হোটেলে পৌঁছানোর মাঝেই আভাস পাওয়া যায় গতিশীল স্রোতের জালে নিখুঁত ভাবে বোনা প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন । রাজকীয় অট্টালিকার ঔজ্জ্বল্যের বিপরীত চিত্র শহরের বহু গলিতে স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেয়ে একবিংশ শতাব্দীর অনিচ্ছয়তা ।

চারদিকের অজস্র সাইনবোর্ড ক্রমাগত জানাতে থাকে নম্বর আর লাল নীল হলুদ রুটের সাবওয়ে যাতে করে ম্যানহাটানের যেকোনো প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌঁছে যাবে কেউ নিমেষের মধ্যে । ফাইভ ষ্টার রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে স্ট্রিট ফুডের স্বাদে বৈচিত্রের সীমা মাপতে মাপতে ঝলমলে বিকেলে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির কাছে ইতিহাসের তীব্র স্রোত গ্রাস করলো এলিস আইল্যান্ড মিউসিয়ামে । কঠিন পরিস্থিতি থেকে সুদিনের আকাঙ্ক্ষায়  মাসের পর মাস প্রাণ ঝুঁকি করে আটলান্টিক মহাসাগর পারি দেবার কাহিনী আরো রোমহর্ষক করে তোলে এলিস আইল্যান্ডের বিখ্যাত ইমিগ্রেশন রেজিস্ট্রি হলকে । প্রতিটি সিঁড়ির ধাপ, জানলার বাইরের দৃশ্য, গাছের পাতার ফাক দিয়ে হলের মেঝেতে সূর্যরশ্মি, ইতিহাসের মুহূর্তগুলোকে মিউজিয়ামের বাঁধানো ফটোফ্রেমের থেকে উঠিয়ে এনে এক অদৃশ্য মায়াজাল ছড়িয়ে দেয়ে । একের পর এক ঘর আর তার বিবরণ অদৃশ্য মুহূর্তগুলোকে প্রাণবন্ত করে অন্য রকম এক পরিবেশ সৃষ্টি করে ।

ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জোরালো উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক ইতিহাসকে উপেক্ষা করা অসম্ভব নিউ ইয়র্কের মাটিতে দাড়িযে । গ্রাউন্ড জিরো রয়ে গেছে বেদনা, কৃতজ্ঞতা, প্রার্থনা, ব্যর্থতা, প্রত্যাশা, স্মৃতি, নিষ্ঠুর বাস্তবের সাথে সংঘর্ষের স্মারক হয়ে । বিষন্নতার পরিবেশ কাটিয়ে উঠে আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা আকর্ষণীয় প্রতিরক্ষা চারদিকে এখন চোখে পড়ার মতন । ইন্টেলিজেন্স এজেন্সীগুলির সাথে প্রযুক্তির সংমিশ্রনে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাতের টাইমস স্কোয়ারের অতুলনীয় প্রাণবন্তে আমেজসিক্ত হওয়ার পর তার রেশ কাটতে কয়েকশ বছর লেগে যায় ।

1 comment:

“Don't part with your illusions. When they are gone you may still exist, but you have ceased to live.” ~ Mark Twain